সাড়ে ৪ ঘণ্টায় ১৩ বার ভূমিকম্প! আতঙ্কে মানুষ
মাত্র সাড়ে ৪ ঘণ্টার ব্যবধানে একের পর এক ১৩ বার ভূমিকম্পে কেঁপে উঠেছে একটি অঞ্চল। স্বল্প সময়ের মধ্যে এত ঘনঘন কম্পনের ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। অনেক মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে খোলা জায়গায় অবস্থান নিতে বাধ্য হন, কেউ কেউ রাতভর নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে বাইরে সময় কাটান।
ভূমিকম্পগুলোর বেশিরভাগই ছিল হালকা থেকে মাঝারি মাত্রার। তবে ঘনঘন কম্পনের কারণে মানসিক চাপ ও উদ্বেগ বেড়ে যায়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, কখনো মৃদু দুলুনি, আবার কখনো তুলনামূলক শক্ত কম্পন অনুভূত হয়েছে। বারবার কেঁপে ওঠায় মানুষ ভেবেছে, হয়তো বড় কোনো ভূমিকম্পের পূর্বাভাস কি না।
ভূতাত্ত্বিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, একই এলাকায় স্বল্প সময়ের মধ্যে একাধিক ভূমিকম্প সাধারণত ‘আফটারশক’ বা ভূত্বকের ভেতরে জমে থাকা শক্তি ধাপে ধাপে নিঃসৃত হওয়ার ফল। একটি তুলনামূলক বড় কম্পনের পর এমন ধারাবাহিক ভূমিকম্প ঘটতে পারে। এতে তাৎক্ষণিকভাবে বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা কম থাকলেও পুরো পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা প্রয়োজন।
বিশেষজ্ঞরা আরও জানান, ঘনঘন ভূমিকম্প মানেই যে বড় বিপর্যয় আসছে—তা নয়। তবে ভূমিকম্পপ্রবণ এলাকায় বসবাসকারীদের সতর্ক থাকা জরুরি। পুরোনো ও ঝুঁকিপূর্ণ ভবন থেকে দূরে থাকা, জরুরি প্রয়োজনীয় সামগ্রী প্রস্তুত রাখা এবং সরকারি নির্দেশনা অনুসরণ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
এদিকে প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এখন পর্যন্ত বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির কোনো খবর পাওয়া যায়নি। তবে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। জরুরি সেবা সংস্থাগুলোকে প্রস্তুত থাকতে বলা হয়েছে, যাতে প্রয়োজনে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া যায়।
ভূমিকম্প বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, জলবায়ু ও ভূতাত্ত্বিক পরিবর্তনের কারণে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে ভূমিকম্পের প্রবণতা বাড়ছে। এ কারণে ভবিষ্যতে ক্ষয়ক্ষতি কমাতে ভূমিকম্প সহনশীল অবকাঠামো নির্মাণ এবং জনসচেতনতা বাড়ানোর ওপর জোর দিয়েছেন তারা।