আসছে মার্চ মাসে ভারতের মিজোরামে জনপ্রিয় ‘চাপচার কুট’ (বসন্ত উৎসব)। কৃষিভিত্তিক এ উৎসবের অন্যতম আকর্ষণ হচ্ছে কুকুরের মাংসের তৈরি নানান খাবার। এ উৎসবে কুকুরের মাংসের নানান পদের খাবার তৈরি করে চড়া দামে বিক্রি করেন ভারতের মিজোরামের ব্যবসায়ীরা।
প্রতি বছর এ সুযোগ কাজে লাগাতে তৎপর হয়ে ওঠে রাঙামাটির এক শ্রেণির মানুষ। তারা বিভিন্ন স্থান থেকে বেওয়ারিশ কুকুর ধরে পাচার করে মিজোরামে। প্রতিটি কুকুর বিক্রি হয় ১২ থেকে ১৫ হাজার রুপিতে।
জানা গেছে, উৎসবটিকে কেন্দ্র করে পাংখোয়া সম্প্রদায়ের মাঝে কুকুরের মাংস খাওয়ার ধুম পড়ে যায়। তাই উৎসব শুরু হওয়ার আগে প্রতি বছর ফেব্রুয়ারি মাসের মাঝামাঝি থেকে ওই অঞ্চলে দেখা দেয় কুকুরের মাংসের ব্যাপক চাহিদা। এ সময় রাঙামাটি জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে ব্যাপক হারে পাচার হয় কুকুর। কিছু সিন্ডিকেট জেলার বিভিন্ন স্থান থেকে বিশেষভাবে তৈরি বাঁশের ফাঁদ ব্যবহার করে কুকুর ধরে। পরে নৌকাযোগে কাপ্তাই হ্রদ পাড়ি দিয়ে সেগুলো বরকল উপজেলায় নেওয়া হয়। সেখান থেকে সীমান্তবর্তী এলাকা হয়ে মিজোরামে পাচার করা হয়। তবে মিজোরামে কুকুরের মাংস খাওয়া এবং বিক্রি নিষিদ্ধের আইন রয়েছে।
২০২০ সালের মার্চ মাসে মিজোরাম বিধানসভা ‘মিজোরাম প্রাণী জবাই (সংশোধন) বিল-২০২০’ পাস করে, যার মাধ্যমে আইনিভাবে কুকুরকে জবাই বা ভোজ্য প্রাণীর তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। রাঙামাটির লংগতু উপজেলার বাইট্টাপাড়া এলাকার স্থানীয়দের অভিযোগ- প্রতি বছর ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি সময় থেকে বেওয়ারিশ কুকুর ধরা শুরু করে কিছু লোকজন। তারা মালিকবিহীন কুকুর দেখলেই গলায় রশি বেঁধে তুলে নেয়। পরে লংগদু উপজেলার কাট্টলি দ্বীপ এলাকায় নিয়ে যায়। ওখান থেকেই সীমান্ত হয়ে কুকুরগুলো পাচার হয় ভারতের মিজোরামে। রাঙামাটি জেলা পুলিশ
সুপার আবদুল রকিব জানান, কিছু মানুষ বেওয়ারিশ কুকুর ধরছে এমন তথ্য পেয়েছি। তবে এখন পর্যন্ত ভারতের মিজোরামে পাচারের কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। কিছু ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী সম্প্রদায়ের মধ্যে কুকুরের মাংস খাওয়ার প্রচলন রয়েছে। তবে আইন ভঙ্গ করে কেউ বেওয়ারিশ কুকুর পাচার করলে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।