বিশ্ব রাজনীতিতে আবারও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছেন যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তা রক্ষায় জাতিসংঘের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি একটি নতুন কাঠামোর প্রস্তাব দিয়েছেন, যার নাম দেওয়া হয়েছে ‘শান্তি পর্ষদ’ (Peace Council)। অনেক বিশ্লেষকের মতে, এটি ভবিষ্যতে জাতিসংঘের বিকল্প হিসেবে দাঁড় করানোর একটি রাজনৈতিক কৌশলও হতে পারে।
ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, বর্তমান বিশ্ব সংকট—বিশেষ করে যুদ্ধ, সন্ত্রাসবাদ ও আঞ্চলিক সংঘাত—নিয়ন্ত্রণে জাতিসংঘ কার্যকর ভূমিকা রাখতে ব্যর্থ হয়েছে। তাঁর ভাষায়, “জাতিসংঘ এখন একটি ধীরগতির ও রাজনৈতিক স্বার্থনির্ভর প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে, যেখানে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার সক্ষমতা নেই।”
কী এই ‘শান্তি পর্ষদ’?
ট্রাম্পের প্রস্তাবিত শান্তি পর্ষদ হবে একটি ছোট কিন্তু শক্তিশালী আন্তর্জাতিক জোট, যেখানে বিশ্বের প্রভাবশালী দেশগুলো সরাসরি অংশ নেবে। এই পর্ষদের মূল লক্ষ্য হবে—
-
যুদ্ধ ও সংঘাত দ্রুত সমাধান
-
শান্তি চুক্তি বাস্তবায়নে কঠোর নজরদারি
-
প্রয়োজনে সামরিক ও অর্থনৈতিক চাপ প্রয়োগ
ট্রাম্পের মতে, কম সদস্য নিয়ে গঠিত এই কাঠামো দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে পারবে, যা জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের দীর্ঘ প্রক্রিয়ার তুলনায় অনেক বেশি কার্যকর হবে।
আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া
এই প্রস্তাব ঘিরে বিশ্বজুড়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কিছু দেশ মনে করছে, জাতিসংঘের সংস্কার প্রয়োজন এবং বিকল্প কাঠামো নিয়ে আলোচনা হওয়াটা সময়ের দাবি। অন্যদিকে অনেক রাষ্ট্র ও বিশ্লেষক সতর্ক করে বলছেন, এ ধরনের উদ্যোগ বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন বিভাজন তৈরি করতে পারে এবং বহুপাক্ষিক কূটনীতিকে দুর্বল করে তুলতে পারে।
জাতিসংঘ সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, সংস্থাটি নিখুঁত না হলেও এটি এখনও আন্তর্জাতিক সহযোগিতার সবচেয়ে বড় ও গ্রহণযোগ্য প্ল্যাটফর্ম। বিকল্প কাঠামো গড়ে উঠলে তা বিশ্বব্যবস্থায় অস্থিতিশীলতা বাড়াতে পারে।
ভবিষ্যৎ কী বলছে?
ট্রাম্পের ‘শান্তি পর্ষদ’ আপাতত একটি রাজনৈতিক প্রস্তাব হিসেবেই রয়েছে। তবে আসন্ন মার্কিন নির্বাচন এবং বৈশ্বিক ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে বিষয়টি আরও জোরালোভাবে আলোচনায় আসতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
বিশ্ব শান্তি ও নিরাপত্তা রক্ষায় সত্যিই কি জাতিসংঘের বিকল্প প্রয়োজন, নাকি সংস্কারই যথেষ্ট—এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতেই এখন তাকিয়ে আছে আন্তর্জাতিক মহল।