লাল গাভী, থার্ড টেম্পল ও শেষ যুগ—ভ্রান্ত ধারণা নাকি বাস্তবতা?
সাম্প্রতিক সময়ে “লাল গাভী” (Red Heifer) নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা ধরনের ভীতি ও বিভ্রান্তিকর আলোচনা ছড়িয়ে পড়েছে। অনেকেই এটিকে সরাসরি কেয়ামত, দাজ্জাল ও আসন্ন বিশ্বযুদ্ধের সঙ্গে যুক্ত করছেন। কিন্তু বিষয়টি বাস্তবতা ও ধর্মীয় সূত্রের আলোকে পর্যালোচনা করা জরুরি।
ইহুদি ধর্মগ্রন্থে লাল গাভীর উল্লেখ রয়েছে একটি প্রাচীন পবিত্রতা-সংক্রান্ত বিধান হিসেবে। তবে এই বিশ্বাস সব ইহুদি সম্প্রদায়ের সর্বসম্মত আকিদা নয়। এটি মূলত কিছু সীমিত ও চরমপন্থী ধর্মীয় গোষ্ঠীর মধ্যে প্রচলিত। ইসরায়েল রাষ্ট্র বা বৈশ্বিক ইহুদি সমাজ সামগ্রিকভাবে এই বিশ্বাস বাস্তবায়নে একমত—এমন কোনো প্রমাণ নেই।
একইভাবে “থার্ড টেম্পল” নির্মাণের দাবি ইসরায়েলের রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্ত নয়। এটি একটি নির্দিষ্ট আদর্শিক আন্দোলনের চিন্তা মাত্র। আল-আকসা মসজিদ আন্তর্জাতিক আইন, মুসলিম বিশ্বের আবেগ ও রাজনৈতিক বাস্তবতায় একটি সংরক্ষিত পবিত্র স্থান। এটিকে সহজভাবে ভেঙে ফেলার ধারণা বাস্তবতার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়।
ইসলামে দাজ্জাল একটি বড় ফিতনা হিসেবে বর্ণিত হলেও, ইহুদি ধর্মের “মাশিয়াখ” ধারণার সঙ্গে দাজ্জালকে এক করে দেখা আকিদাগতভাবে সঠিক নয়। দাজ্জাল কোনো নির্দিষ্ট জাতি বা বর্তমান রাজনৈতিক ঘটনার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে ইসলাম আমাদের সতর্ক করেছে।
রাসূলুল্লাহ ﷺ আমাদের শিখিয়েছেন, শেষ যুগের ফিতনার সময় আতঙ্ক ছড়ানো নয়; বরং ঈমান মজবুত করা, দোয়া করা এবং সত্য-মিথ্যা যাচাই করে কথা বলা জরুরি। বিশেষ করে দাজ্জালের ফিতনা থেকে বাঁচার দোয়া নিয়মিত পড়ার নির্দেশ দিয়েছেন।
বর্তমান বিশ্বে যুদ্ধ, দখলদারিত্ব ও জুলুম হচ্ছে—এগুলো বাস্তব। কিন্তু এসব ঘটনাকে নিশ্চিত কেয়ামতের আলামত বা অবশ্যম্ভাবী মহাযুদ্ধ বলে উপস্থাপন করা মানুষের মধ্যে অকারণ ভয় ও বিভ্রান্তি তৈরি করে।
একজন মুমিনের দায়িত্ব হলো—
নিজের ঈমান ও আমল ঠিক রাখা,
জুলুমের বিরুদ্ধে ন্যায়ের পক্ষে থাকা,
এবং যাচাই ছাড়া ভীতি ও ঘৃণা ছড়ায়—এমন বয়ান থেকে দূরে থাকা।
কারণ ইতিহাস প্রমাণ করে, ভুল তথ্য ও অতিরঞ্জিত বিশ্বাস অনেক সময় বাস্তব যুদ্ধের চেয়েও বেশি ক্ষতিকর হয়ে ওঠে।