তেল আবিবে মাটিতে পড়ে থাকা বস্তু না ধরার আহ্বান
ইরানের ছোড়া ক্লাস্টার মিউনিশন বা গুচ্ছ বোমার আঘাতে রাজধানী তেল আবিবের বিভিন্ন স্থানে বিস্ফোরিত হয়েছে বলে জানিয়েছেন ইসরায়েলের কর্মকর্তারা।
এর আগে ইসরায়েলি পুলিশের এক মুখপাত্র বলেছিলেন, ইরানের একটি ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার সময় আকাশ থেকে পড়ে থাকা ধ্বংসাবশেষের কারণে তেল আবিবের কাছে দুটি স্থানে আগুন লাগে। তবে পরবর্তীতে ইসরায়েলের একাধিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ওই আগুনসহ মধ্য ইসরায়েলের আরও কয়েকটি স্থানে অগ্নিকাণ্ডের কারণ ছিল ইরানের ছোড়া ক্লাস্টার মিউনিশন।
রিশন লেজিয়ন শহরের মেয়র রায কিনসটলিচ বলেন, ‘গত এক ঘণ্টায় চালানো হামলার সময় শহরের কয়েকটি স্থানে একটি ক্লাস্টার মিউনিশন বিস্ফোরিত হয়েছে।’ তিনি জানান, এতে এখন পর্যন্ত কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। তবে তিনি বাসিন্দাদের মাটিতে পড়ে থাকা কোনো ধ্বংসাবশেষের কাছে না যেতে এবং তা স্পর্শ না করার আহ্বান জানিয়েছেন।
তিনি বলেন, ‘এসব ধ্বংসাবশেষের মধ্যে অবিস্ফোরিত ক্লাস্টার মিউনিশন থাকতে পারে, যা মানুষের জীবনের জন্য বিপজ্জনক হতে পারে।’
এদিকে ইসরায়েলি পুলিশের মুখপাত্র গিলি এলহাদাদ জানান, ক্লাস্টার ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে সৃষ্ট একাধিক বিস্ফোরণের ঘটনায় পুলিশ বিভিন্ন স্থানে ছুটে যাচ্ছে। তিনি বলেন, ‘মোট সাতটি স্থানে ক্লাস্টার মিউনিশনের বিস্ফোরণ ঘটেছে।’
এলহাদাদ জানান, কয়েকটি যানবাহন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। অবিস্ফোরিত গোলাবারুদ নিষ্ক্রিয় করতে ঘটনাস্থলে বোমা নিষ্ক্রিয়কারী ইউনিট কাজ করছে।
ক্লাস্টার বোমা এমন এক ধরনের অস্ত্র যা আকাশ থেকে বিমান বা মাটি থেকে মিসাইলের মাধ্যমে নিক্ষেপ করা হয়। একটি বড় কন্টেইনার বা বোমার ভেতরে শত শত ছোট ছোট বোমা (যাকে সাব-মিউনিশন বলে) থাকে। মাঝ আকাশে এই বড় বোমাটি ফেটে যায় এবং ছোট বোমাগুলো বিশাল এলাকা জুড়ে ছড়িয়ে পড়ে। এই ছোট বোমাগুলোর একটি বড় অংশ নিক্ষেপের পর তাৎক্ষণিক বিস্ফোরিত না হয়ে মাটিতে 'অবিস্ফোরিত’ থেকে যায়। এগুলো পরবর্তীকালে ল্যান্ডমাইনের মতো কাজ করে এবং মৃত্যুর কারণ হয়ে দাঁড়ায়।