শাবান মাসে যে ৩ রোজা বেশি ফজিলতপূর্ণ
ইসলামি বর্ষপঞ্জির অষ্টম মাস শাবান। এই মাসটি রমজানের প্রস্তুতির মাস হিসেবে বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। হাদিসে শাবান মাসে নফল ইবাদত, বিশেষ করে রোজার ফজিলত সম্পর্কে একাধিক বর্ণনা পাওয়া যায়। আলেমরা বলেন, শাবান মাসে কিছু নির্দিষ্ট দিনের রোজা অন্যান্য দিনের তুলনায় বেশি ফজিলতপূর্ণ।
১. শাবানের ১৩, ১৪ ও ১৫ তারিখ (আইয়ামে বীজের রোজা)
প্রতি হিজরি মাসের ১৩, ১৪ ও ১৫ তারিখকে আইয়ামে বীজ বলা হয়। হাদিসে এই তিন দিনের রোজাকে অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ বলা হয়েছে। রাসুলুল্লাহ (সা.) প্রতি মাসে এই তিন দিন রোজা রাখতেন। শাবান মাসে এই রোজাগুলোর ফজিলত আরও বেশি, কারণ এটি রমজানের ঠিক আগের মাস।
২. শাবানের ১৫ তারিখের আগের দিন (১৪ শাবান)
অনেক আলেমের মতে, শাবানের মধ্যভাগের আগে নফল রোজা রাখা বিশেষভাবে উত্তম। কারণ এই সময় মানুষ সাধারণত ইবাদতে উদাসীন থাকে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, শাবান এমন একটি মাস, যে মাসে মানুষ উদাসীন থাকে, অথচ এই মাসেই আমল আল্লাহর দরবারে পেশ করা হয়।
৩. সোমবার ও বৃহস্পতিবারের রোজা (শাবান মাসে হলে বিশেষ ফজিলত)
হাদিসে এসেছে, প্রতি সপ্তাহের সোমবার ও বৃহস্পতিবার মানুষের আমল আল্লাহর কাছে পেশ করা হয়। রাসুলুল্লাহ (সা.) এসব দিনে রোজা রাখতে পছন্দ করতেন। শাবান মাসে সোমবার ও বৃহস্পতিবারে রোজা রাখলে সপ্তাহিক আমল পেশ ও শাবান মাসের ফজিলত—দুইটির সওয়াব একসঙ্গে পাওয়া যায়।
শাবান মাসে রোজা রাখার গুরুত্ব
হজরত আয়েশা (রা.) বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) রমজান ছাড়া অন্য কোনো মাসে শাবানের মতো বেশি রোজা রাখতেন না। এটি প্রমাণ করে যে শাবান মাসে রোজা রাখা সুন্নত ও অত্যন্ত সওয়াবের কাজ।
তবে আলেমরা বলেন, শারীরিক সক্ষমতা ও রমজানের প্রস্তুতির কথা মাথায় রেখে রোজা রাখা উত্তম। যেন রমজানের ফরজ রোজা আদায়ে কোনো অসুবিধা না হয়।