রমজান মাসে সিয়াম সাধনার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো সেহরি। সুবহে সাদিকের আগে বরকতময় এই খাবার গ্রহণের মাধ্যমেই একজন রোজাদার সারাদিনের উপবাসের প্রস্তুতি নেন। তবে আমাদের দেশে একটি সাধারণ প্রশ্ন প্রায়ই দেখা দেয়-মসজিদের মাইকে যখন ‘সেহরির সময় শেষ’ ঘোষণা করা হয়, তখন কি কিছু খাওয়া যাবে?
সেহরির সময়সীমা ও বিধান
ইসলামি শরিয়তের বিধান অনুযায়ী, সুবহে সাদিক থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত পানাহার ও অন্যান্য নিষিদ্ধ কাজ থেকে বিরত থাকাই হলো রোজা। সেহরি শব্দের আক্ষরিক অর্থ হলো ‘ভোরের খাবার’। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে এই খাবার গ্রহণ করা সুন্নত এবং এতে বিশেষ বরকত রয়েছে বলে হাদিসে উল্লেখ আছে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, “তোমরা সেহরি খাও, কারণ সেহরিতে বরকত আছে।” (বুখারি: ১৯২৩)
ঘোষণার পর খাওয়ার বিধান
সাধারণত মসজিদের মাইকে যখন ঘোষণা করা হয় ‘সেহরির সময় শেষ’, তার অর্থ হলো সুবহে সাদিক শুরু হয়ে গেছে। মুয়াজ্জিনের এই ঘোষণার পর আর কোনো কিছু পানাহার করা বৈধ নয়। যদি কেউ ঘোষণা শোনার পরও খাবার বা পানি গ্রহণ করেন, তবে তাঁর রোজা হবে না।
তবে এখানে একটি সূক্ষ্ম পার্থক্য রয়েছে। বাংলাদেশের অনেক মসজিদে এবং ইসলামিক ফাউন্ডেশনের ক্যালেন্ডার অনুযায়ী, মূল সময়ের ২-৩ মিনিট আগে সতর্কতামূলকভাবে ‘সময় শেষ’ বলা হয়। যদি নিশ্চিত হওয়া যায় যে ওই ঘোষণাটি কেবল সতর্ক করার জন্য এবং সুবহে সাদিক হতে আরও কয়েক মিনিট বাকি আছে, তবে সেই অল্প সময়ে খাওয়া যেতে পারে। কিন্তু আজান শুরু হয়ে গেলে কোনোভাবেই আর কিছু মুখে দেওয়া যাবে না। আজান চলাকালীন বা আজানের পর পানাহার করলে রোজা ভেঙে যাবে।
আমাদের দেশের প্রচলিত ব্যবস্থা
রোজাদারদের সুবিধার্থে দেশের মসজিদগুলো থেকে সেহরির শেষ সময়ের অন্তত এক-দেড় ঘণ্টা আগে থেকেই ডাকাডাকি শুরু হয়। শেষ মুহূর্তে ‘সেহরির সময় শেষ’ বলে চূড়ান্ত সতর্কবার্তা দেওয়া হয় এবং এর কিছুক্ষণ পরই ফজরের আজান দেওয়া হয়।
তাই নিরাপদ ও নিখুঁতভাবে রোজা পালনের জন্য ঘড়ি দেখে সুবহে সাদিকের আগেই সেহরি শেষ করা বুদ্ধিমানের কাজ। মাইকের ঘোষণার অপেক্ষায় না থেকে আগেভাগেই পানাহার শেষ করা জরুরি, যাতে ইবাদতটি নিয়ে কোনো সংশয় না থাকে।