আয়কর রিটার্নে যেসব খাতের টাকার হিসাব দেখাতে হয়
প্রতি বছর নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আয়কর রিটার্ন দাখিল করা বাধ্যতামূলক। রিটার্ন জমা দেওয়ার সময় করদাতাকে তার আয়, ব্যয়, সম্পদ ও বিনিয়োগের বিস্তারিত তথ্য নির্দিষ্ট খাতে উল্লেখ করতে হয়। এসব তথ্য সঠিকভাবে না দিলে করঝুঁকি ও আইনি জটিলতা তৈরি হতে পারে।
আয়কর রিটার্নে যে খাতগুলোর হিসাব দেখাতে হয়—
১. চাকরি থেকে আয়
সরকারি বা বেসরকারি চাকরি থেকে প্রাপ্ত বেতন, উৎসব ভাতা, বোনাস, ওভারটাইম, সম্মানীসহ সব ধরনের আয় উল্লেখ করতে হয়।
২. ব্যবসা বা পেশা থেকে আয়
ব্যবসা, ফ্রিল্যান্সিং, কনসালটেন্সি, চিকিৎসা, আইনজীবী বা অন্য কোনো পেশা থেকে প্রাপ্ত আয়ের হিসাব দিতে হয়।
৩. বাড়িভাড়া থেকে আয়
নিজের মালিকানাধীন বাসা, ফ্ল্যাট, দোকান বা জমি ভাড়া দিয়ে যে আয় হয়, তা আলাদা খাতে দেখাতে হয়।
৪. কৃষি আয়
চাষাবাদ, মাছ চাষ, পশুপালন বা কৃষি সংশ্লিষ্ট অন্য আয় থাকলে সেটিও উল্লেখ করতে হয়।
৫. সুদ ও মুনাফা
ব্যাংক আমানতের সুদ, সঞ্চয়পত্রের মুনাফা, বন্ড বা ডিপোজিট থেকে পাওয়া আয় এই খাতে দেখাতে হয়।
৬. শেয়ার ও পুঁজিবাজার থেকে আয়
শেয়ার বিক্রির মুনাফা, ডিভিডেন্ড বা মিউচুয়াল ফান্ড থেকে প্রাপ্ত আয় উল্লেখ করতে হয়।
৭. অন্যান্য আয়
লটারি, উপহার, সম্মাননা, রয়্যালটি বা অন্য যেকোনো অনিয়মিত আয় থাকলে তা এই খাতে দেখাতে হয়।
ব্যয় ও বিনিয়োগ সংক্রান্ত খাত—
৮. পারিবারিক ও ব্যক্তিগত ব্যয়
খাদ্য, বাসাভাড়া, শিক্ষা, চিকিৎসা, যাতায়াতসহ বার্ষিক ব্যয়ের হিসাব দিতে হয়।
৯. বিনিয়োগ ও কর রেয়াতযোগ্য খাত
জীবন বীমা, ডিপিএস, সঞ্চয়পত্র, শেয়ার, প্রভিডেন্ট ফান্ডে বিনিয়োগের তথ্য উল্লেখ করতে হয়।
১০. সম্পদের বিবরণ
জমি, ফ্ল্যাট, বাড়ি, গাড়ি, ব্যাংক ব্যালেন্স, নগদ অর্থ ও অন্যান্য স্থাবর-অস্থাবর সম্পদের বিবরণ দিতে হয়।
১১. দায় বা ঋণ
ব্যাংক ঋণ, ব্যক্তিগত ঋণ বা অন্য কোনো দেনা থাকলে সেটিও উল্লেখ করতে হয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, আয়কর রিটার্নে সঠিক ও পূর্ণাঙ্গ তথ্য দেওয়া হলে ভবিষ্যতে করসংক্রান্ত জটিলতা এড়ানো সম্ভব হয়। তাই রিটার্ন জমা দেওয়ার আগে সব আয়-ব্যয়ের নথি সংরক্ষণ ও যাচাই করা জরুরি।