যে কোনো সময় ইরানে হামলার আশঙ্কা
মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা ক্রমেই বাড়ছে। চলমান ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে যে কোনো সময় ইরানে সামরিক হামলা হতে পারে—এমন আশঙ্কা প্রকাশ করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা। সাম্প্রতিক কূটনৈতিক টানাপোড়েন, সামরিক প্রস্তুতি ও পাল্টাপাল্টি হুঁশিয়ারিতে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে।
আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের খবরে বলা হচ্ছে, ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের সামরিক তৎপরতা বেড়েছে। একই সঙ্গে ইরানও নিজেদের প্রতিরক্ষা প্রস্তুতি জোরদার করেছে বলে দাবি করছে দেশটির সরকারি সূত্র। এর ফলে অঞ্চলজুড়ে অনিশ্চয়তা ও উদ্বেগ বাড়ছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, সরাসরি হামলা কিংবা সীমিত পরিসরে লক্ষ্যভিত্তিক আঘাত—উভয় সম্ভাবনাই উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। বিশেষ করে পারমাণবিক কর্মসূচি, আঞ্চলিক প্রভাব বিস্তার এবং মিত্র গোষ্ঠীগুলোর ভূমিকা নিয়ে বিরোধ পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করছে।
এদিকে ইরানের পক্ষ থেকে যেকোনো হামলার কঠোর জবাব দেওয়ার হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে। দেশটির কর্মকর্তারা বলছেন, সার্বভৌমত্বে আঘাত এলে তারা চুপ থাকবে না এবং এর প্রভাব পুরো অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়তে পারে।
কূটনৈতিক মহল মনে করছে, এখনো আলোচনা ও কূটনৈতিক সমাধানের পথ খোলা রয়েছে। তবে সামান্য ভুল হিসাব বা উসকানি বড় সংঘাতে রূপ নিতে পারে—এমন সতর্কবার্তাও দিচ্ছেন তারা।
বিশ্ব অর্থনীতি ও জ্বালানি বাজারেও এর প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে বড় ধরনের সংঘাত শুরু হলে তেলের দাম ও বৈশ্বিক বাজারে অস্থিরতা বাড়বে।
পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়। এখন দেখার বিষয়, উত্তেজনা কমাতে কূটনৈতিক উদ্যোগ কার্যকর হয়, নাকি পরিস্থিতি আরও সংঘাতের দিকে গড়ায়।