গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জিতলে সংবিধানে নতুন যুক্ত হবে যেসব বিষয়
প্রস্তাবিত গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের মাধ্যমে জনগণের সমর্থন মিললে বাংলাদেশের সংবিধানে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন ও নতুন বিধান যুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। রাজনৈতিক সংস্কার ও রাষ্ট্রব্যবস্থার কাঠামোগত পরিবর্তনের লক্ষ্যেই এসব বিষয় গণভোটে তোলা হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
বিশেষজ্ঞ ও রাজনৈতিক সূত্র অনুযায়ী, গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জিতলে সংবিধানে যেসব বিষয় যুক্ত বা সংশোধিত হতে পারে সেগুলো হলো—
১. নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ ব্যবস্থার সাংবিধানিক স্বীকৃতি
জাতীয় নির্বাচন পরিচালনায় নিরপেক্ষ বা অন্তর্বর্তীকালীন ব্যবস্থার বিধান সংবিধানে যুক্ত হতে পারে। এতে নির্বাচনকালীন সময়ে প্রশাসনিক নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করার কথা বলা হচ্ছে।
২. ক্ষমতার ভারসাম্য নিশ্চিতকরণ
প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতার সীমা নির্ধারণ এবং রাষ্ট্রপতি ও সংসদের ক্ষমতা বাড়ানোর বিষয়টি সংবিধানে যুক্ত হতে পারে। এতে একক ক্ষমতা কেন্দ্রীকরণ কমবে বলে মত বিশ্লেষকদের।
৩. নির্বাচন কমিশনের স্বাধীনতা
নিয়োগ প্রক্রিয়া ও কার্যক্রমে নির্বাচন কমিশনের পূর্ণ স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে নতুন সাংবিধানিক ধারা যুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
৪. বিচার বিভাগের স্বাধীনতা জোরদার
বিচারক নিয়োগ ও অপসারণ প্রক্রিয়ায় রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ কমাতে নতুন বিধান যুক্ত হতে পারে।
৫. মৌলিক মানবাধিকার সংরক্ষণ
মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, সমাবেশের অধিকার এবং সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা আরও স্পষ্টভাবে সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত হতে পারে।
৬. দুর্নীতিবিরোধী সাংবিধানিক ব্যবস্থা
দুর্নীতি দমন কমিশনসহ রাষ্ট্রীয় জবাবদিহি প্রতিষ্ঠানগুলোকে সাংবিধানিক স্বীকৃতি দেওয়ার প্রস্তাব রয়েছে।
৭. ক্ষমতায় থাকার মেয়াদ ও সীমা
একই ব্যক্তি কতবার প্রধানমন্ত্রী হতে পারবেন—সে বিষয়ে সীমাবদ্ধতা আরোপের বিধান যুক্ত হতে পারে।
৮. স্থানীয় সরকার শক্তিশালীকরণ
স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোকে আর্থিক ও প্রশাসনিক স্বাধীনতা দেওয়ার বিষয়টি সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত হতে পারে।
৯. গণভোট ব্যবস্থার স্থায়ী বিধান
ভবিষ্যতে গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় ইস্যুতে গণভোট আয়োজনের পদ্ধতি ও সীমা নির্ধারণ করে স্থায়ী ধারা যুক্ত হতে পারে।
১০. নাগরিক জবাবদিহি ও রাষ্ট্রীয় স্বচ্ছতা
রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণে তথ্যপ্রাপ্তি ও নাগরিক অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার বিষয়টি সংবিধানে যুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এসব পরিবর্তন বাস্তবায়িত হলে দেশের গণতান্ত্রিক কাঠামো আরও শক্তিশালী হতে পারে। তবে তারা সতর্ক করে বলেন, সংবিধান সংশোধনের ক্ষেত্রে সব রাজনৈতিক দলের ঐকমত্য ও জনগণের পূর্ণ সমর্থন নিশ্চিত করা জরুরি।