ঢাকার সাভারে ‘সাইকো সম্রাট’ নামে পরিচিত এক ভবঘুরে ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি গত সাত মাসে ছয়টি হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
পুলিশ জানায়, সাভারের একটি পরিত্যক্ত কমিউনিটি সেন্টার ভবন থেকে পোড়া অবস্থায় দুটি লাশ উদ্ধারের ঘটনায় তদন্ত করতে গিয়ে এই ব্যক্তিকে শনাক্ত করা হয়। পরে সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণে দেখা যায়, এক ব্যক্তি নিথর লাশ কাঁধে করে ওই ভবনের দিকে নিয়ে যাচ্ছে। ফুটেজের সঙ্গে স্থানীয়দের তথ্য মিলিয়ে অভিযুক্তকে চিহ্নিত করা হয়।
পরিত্যক্ত ভবনেই বসবাস
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্ত ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরে ওই পরিত্যক্ত কমিউনিটি সেন্টার ভবনেই বসবাস করছিলেন। ভবঘুরে ও মানসিক ভারসাম্যহীন বলে পরিচিত হওয়ায় তাকে কেউ সন্দেহ করেনি। অথচ সেই ভবন থেকেই একাধিক মরদেহের সন্ধান পাওয়া গেছে।
ভাইরাল ভিডিও ঘিরে নতুন প্রশ্ন
গ্রেপ্তারের কয়েক দিন আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, এক ভ্লগার ওই পরিত্যক্ত ভবনে প্রবেশ করলে সেখানে এক কিশোরী বয়সী মানসিক ভারসাম্যহীন মেয়েকে পাওয়া যায়। মেয়েটি নিজেকে অভিযুক্তের বোন বলে পরিচয় দেয়।
ভিডিওর একপর্যায়ে অভিযুক্ত ব্যক্তিকেও দেখা যায়। তার আচরণ ছিল স্বাভাবিক, ভদ্র ও সাবলীল। ভিডিওটি প্রকাশের পর অনেকেই বিভ্রান্ত হন, কারণ ওই সময় তার মধ্যে কোনো সহিংসতার আভাস পাওয়া যায়নি।
পুলিশ জানিয়েছে, ভিডিওতে দেখা কিশোরীটি হত্যার শিকার হয়েছে কি না—সে বিষয়টি তদন্তাধীন। তবে অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে ওই ভবন থেকে উদ্ধার হওয়া দুইটি পোড়া লাশের ঘটনায়।
এলাকায় প্রশাসনিক স্থাপনা থাকা সত্ত্বেও প্রশ্ন
এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ ও ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। কারণ ওই এলাকার আশপাশে পুলিশ ফাঁড়ি ও নিরাপত্তা বাহিনীর ক্যাম্প থাকা সত্ত্বেও দীর্ঘ সাত মাসে একাধিক হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভাসমান ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর মানুষ নিখোঁজ বা হত্যার শিকার হলে অনেক সময় তা নজরে আসে না। ফলে অপরাধীরা দীর্ঘ সময় আড়ালে থেকে যায়।
সিরিয়াল কিলার শনাক্তে চ্যালেঞ্জ
অপরাধ বিশ্লেষকদের মতে, রাজনৈতিক, পারিবারিক বা আর্থিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হত্যাকাণ্ড তুলনামূলক সহজে শনাক্ত করা গেলেও সিরিয়াল কিলারদের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট মোটিভ না থাকায় তাদের চিহ্নিত করা কঠিন হয়।
বাংলাদেশেও অতীতে এমন নজির রয়েছে। ২০০৯ সালে গ্রেপ্তার হওয়া সিরিয়াল কিলার রসু খাঁ একাধিক নারী হত্যার দায়ে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত হলেও তার সাজা কার্যকর হয়নি—যা এখনও জনমনে আলোচনার বিষয়।
তদন্ত চলমান
পুলিশ জানিয়েছে, সাইকো সম্রাটের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাগুলোর তদন্ত চলছে। তার স্বীকারোক্তি যাচাই করা হচ্ছে এবং আরও কোনো হত্যাকাণ্ডে তার সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এই ঘটনার মাধ্যমে ভবঘুরে বা মানসিক ভারসাম্যহীন পরিচয়ের আড়ালে থাকা অপরাধীদের বিষয়েও নজরদারি জোরদার করা হবে।
#সাভার #সিরিয়ালকিলার #সাইকোসম্রাট #CrimeNews #BangladeshCrime #BreakingNews