ইরানে মার্কিন-ইসরায়েলের যৌথ হামলার মাঝেই বিশ্ব বাজারে স্বর্ণের দাম বেড়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম ৫ হাজার ২৭৮ ডলার ছাড়িয়েছে। বিশ্লেষকরা এটিকে স্বর্ণের দামে উল্লেখযোগ্য উল্লম্ফন হিসেবে দেখছেন এবং পরিস্থিতি আরও অবনতি হলে দাম নতুন উচ্চতায় পৌঁছাতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন।
শেনজেনভিত্তিক ফার্স্ট সিফ্রন্ট ফান্ডের প্রধান অর্থনীতিবিদ ইয়াং ডেলং রোববার গ্লোবাল টাইমসকে জানান, সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতিতে বৈশ্বিক পুঁজির জন্য স্বর্ণ ‘চূড়ান্ত নিরাপদ বিনিয়োগের আশ্রয়স্থল’ হয়ে উঠতে পারে। সে ক্ষেত্রে স্বর্ণের দাম নতুন সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছানোর সম্ভাবনা রয়েছে।
সপ্তাহান্তে বৈশ্বিক বাজার বন্ধ থাকলেও অনলাইন প্ল্যাটফর্মে স্বর্ণের দাম তুলনামূলক বেশি ছিল। এ কারণে বিশ্লেষকরা সোমবার বাজার খোলার সময় বড় ধরনের ‘গ্যাপ-আপ’ শুরুর পূর্বাভাস দিয়েছেন। শেয়ারবাজারে আগের দিনের বন্ধদরের তুলনায় উল্লেখযোগ্য বেশি দামে লেনদেন শুরু হলে তাকে গ্যাপ-আপ বলা হয়।
ইয়াং বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান পরিস্থিতি বাজারে ঝুঁকির মাত্রা বাড়িয়েছে। সোমবার বাণিজ্য পুনরায় শুরু হলে বিনিয়োগকারীরা ঝুঁকি মোকাবিলার প্রস্তুতি নেবেন। এ ক্ষেত্রে স্বর্ণ ও রুপার মতো নিরাপদ সম্পদে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা যেতে পারে।
হামলার আগেও স্বর্ণের দামে ঊর্ধ্বগতি ছিল। জানুয়ারিতে প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম প্রায় ৫ হাজার ৬০৮ ডলারে পৌঁছে সর্বকালের সর্বোচ্চ রেকর্ড গড়েছিল। দাম বাড়লেও চাহিদা কমেনি বলে জানান ইয়াং।
নিরাপদ বিনিয়োগের এই প্রবণতা গোল্ড ফিউচার বাজারেও প্রতিফলিত হচ্ছে। সিএমই গ্রুপের ওয়েবসাইট অনুযায়ী, শিকাগো মার্কেন্টাইল এক্সচেঞ্জ (সিএমই)-এ প্রতি আউন্স স্বর্ণের ফিউচার দাম বেড়ে ৫ হাজার ২৯৬ ডলারে দাঁড়িয়েছে।